রায়গঞ্জে ধান শুকাতে ব্যস্ত কৃষক, ঝলমলে রোদে জনমনে ফিরেছে স্বস্তি
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রোদের দেখা মিলেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঝলমলে রোদ। পানিও কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এতে বিল অঞ্চলের কৃষকের মনে স্বস্তি ফিরেছে। অনেকেই কাটা ধান ও গবাদিপশুর জন্য খড় রাস্তায় ও আঙিনায় ত্রিপল বিছিয়ে রোদে শুকাতে দিয়েছেন। কেউ কেউ বিলের পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটছে।
শুক্রবার দুপুরে উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকার কৃষক সিরাজুল ইসলাম তোতা বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত দিন ভালোই যাচ্ছে। সকাল থেকে কড়া রৌদ উঠছে। ভিজা কিছু ধান ও খড় সড়কে শুকাতে দিয়েছি। এভাবে কয়েক দিন রৌদ উঠলে ধান আর গরুর জন্য খড় শুকানো যাবে।’
ক্ষিরতলা গ্রামের কৃষক কাজী মুদ্দীন কাজী বলেন, ‘গত ছয় সাত দিন ভারী বৃষ্টির কারণে ধান তলিয়ে গেছে, আবার উঁচু জমির ধান পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় বিলের পানি হালকা কমেছে। লোকজন নিয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়া ৮ বিঘা (২৬৪ শতক) ধান কেটেছি। এভাবে টানা রোদ উঠলে কিছুটা হলেও আমাদের মতো কৃষকদের রক্ষা হবে।’
রায়গঞ্জ কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মমিনুল ইসলাম জানান, রায়গঞ্জ উপজেলার ৯ ইউনিয়নে আবাদ করা হয়েছে প্রায় ১৯ হাজার ৩ শত ৮০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ভারী বৃষ্টিতে ১ হাজার ৮ শত ৭৫ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২ হাজার কৃষক পরিবার।
কৃষিবিদ মোঃ মমিনুল ইসলাম আরো বলেন, এবছর ১৯ হাজার ৩ শত ৮০ হেক্টর জমিতে ইরি/বোরো ধানের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ২৪ হাজার ৮ শত ৮ মেট্রিক টন।
তবে স্থানীয় কৃষকেরা বলেন, বৃষ্টির কারণে যে পরিমাণ ক্ষতি না হয়েছে, তার চেয়ে ক্ষতি হয়েছে সময় মতো কামলা (শ্রমিক) না পাওয়ার কারণে।
নিমগাছী বহু মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ইউনুস রবিন বলেন, বিল অঞ্চলের তাদের একমাত্র ফসলই হচ্ছে বোরো ধান। এই ধানের ওপর তাঁদের সারা বছর সংসারের খরচ নির্ভর করে। এবার অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বিল অঞ্চলে খেতের ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। পানি আসার আগে ডিজেল–সংকটে হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা যায়নি। এরপর পানি এলে বেশি টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যায়নি।
ধানগড়া ইউনিয়নের বাসু রিয়া গ্রামের কৃষক বেলাল সরকার বলেন, করতোয়া নদীর পাশে অনেক ধান পানির নিচে। এখন রোদ থাকলে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে।
মন্তব্য করুন