স্টাফ রিপোর্টারঃ মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার মানিকপুর বাজারে ওএমএস চাল ও আটা বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ডিলার মোঃ রুহুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ে দোকান না খোলা, কম ওজনে পণ্য বিতরণ ও গ্রাহকদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা থেকে গিশে একটি অনুসন্ধানী টিম মানিকপুর বাজারে অভিযান চালায়। এসময় ডিলারের দোকানে ৩০ বস্তা চাল ও ১০ বস্তা আটা মজুদ অবস্থায় পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা জানান, ডিলার রুহুল কুদ্দুস প্রতিদিন বারোটার সময় দোকান বন্ধ করে দেন। সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও ভোক্তাদের ৩ কেজি, ৪ কেজি করে চাল-আটা দেওয়া হয়। পণ্য চাইতে গেলে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়।
অভিযানের সময় উপস্থিত তদারককারী কর্মকর্তা আসমা বেগম কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বিষয়টি উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার মুঠো ফোনে কল দিলে তার স্ত্রী কল রিসিভ করে অশোভন আচরণ করেন। পরে জেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে অবগত করলে তিনি একজন জেলা তদারককারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পাঠান। তার উপস্থিতিতে একটি অটোবাইকে করে ১০ বস্তা আটা দোকানে নেন। এ অবস্থায় ডিলার ও আটা বহনকারী অটো চালকের কথায় গরমিল পাওয়া যায়। দোকানে আটার মেমো পাওয়া গেলেও ভ্যান চালকের নিকট আরো একটি আটার মেমো পাওয়া যায় যাতে কোনো দিন তারিখ উল্লেখ নেই। এ আটা সম্পর্কে জানতে চাইলেও ডিলার ও উপস্থিত তদারককারী কর্মকর্তা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।
এ ব্যাপারে মেসার্স মুন্সীগন্জ ফ্লাওয়ার মিলস কর্তৃপক্ষ জানান, মাল একদিন আগে দেওয়া হয়েছে। এ কালোবাজারিতে মিলারও জড়িত বলে ধারনা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, জেলা তদারককারী কর্মকর্তার অসহযোগিতার সুযোগে ডিলার রুহুল কুদ্দুস তার পালিত লোকজন নিয়ে ঢাকা থেকে যাওয়া অনুসন্ধানী টিমের উপর মব সৃষ্টির চেষ্টা করেন। কোনোমতে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে অনুসন্ধানী টিম ঢাকায় ফিরে আসে।
এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয়রা দ্রুত এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন