নরসিংদী প্রতিনিধি : নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চর্ণগরদী ইউনিয়নের চর্ণগরদী বাজার দারুল ইরশাদ মাদরাসা, মসজিদ ও এতিমখানা কমপ্লেক্সের ইমাম ও খতিব মুফতি কাউছারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে মুফতি কাউছারকে মসজিদের ইমাম এবং এতিমখানা মাদরাসার একজন সাধারণ শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি কূটকৌশলে নিজেকে মসজিদের খতিব ও মাদরাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মুফতি কাউছারের বাড়ি পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ঢালুয়ারচর এলাকায়। দায়িত্ব পালনের সময় তিনি মসজিদ-মাদরাসা কমপ্লেক্সের দোকান, পুকুর ও অন্যান্য সম্পদের ইজারার অর্থের সঠিক হিসাব দেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী দোসর সাইদুল কাজীর নামক ফ্যাসিস্ট নেতার সঙ্গে যোগসাজশ করে এসব অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এমনকি কমপ্লেক্সের নামে ওয়াকফকৃত জমি গোপনে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় মুসল্লিরা অভিযোগ করেন, মাদরাসা ও মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে তিনি কোনো হিসাব দিতে পারেননি। এছাড়া এতিমখানায় এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে মুফতি কাউছার এর বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসীর দাবি, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি কওমি মাদরাসা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, হিসাব-নিকাশের বিষয়ে চাপ বাড়লে মুফতি কাউছার এতিমখানা ও কমপ্লেক্সের কার্যক্রম বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে চলে যান। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে দাবি করেছেন প্রতিবাদকারীরা।
সম্প্রতি চর্ণগরদী বাজারে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা মুফতি কাউছারের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে মুফতি কাউছারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করে বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
তবে মুফতি কাউছারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন