মোঃ তরিকুল ইসলাম, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি: বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় এলাকায় শুরু হয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার (১৪ মে, ২০২৬) হযরত শাহ সুলতান বলখী (র.)-এর মাজারকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ মেলায় আধ্যাত্মিক আবহ ও লোকজ সংস্কৃতির মেলবন্ধনে মুখর হয়ে উঠেছে প্রাচীন বাংলার রাজধানী পুন্ড্রনগর।
বৃহস্পতিবার মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত সাধু-সন্ন্যাসী, বাউল ও ফকিরদের পদচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। মাজারসংলগ্ন স্থানে দলবদ্ধভাবে পরিবেশিত হচ্ছে মারফতি, জারি, সারি ও মুর্শিদি গান। এসব গানের আসরে ভিড় করছেন হাজারো দর্শনার্থী। আধ্যাত্মিক সাধনার টানে অনেকে কয়েকদিন আগেই অস্থায়ী আস্তানা গেড়ে মেলা প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ইংরেজ আমল থেকেই এ মেলার রয়েছে বিশেষ ঐতিহাসিক গুরুত্ব। লোকমুখে প্রচলিত আছে, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা মজনু শাহ মহাস্থানগড়কে কেন্দ্র করেই ফকির বিদ্রোহ পরিচালনা করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করেই প্রতি বছর বৈশাখের শেষ বৃহস্পতিবার এ মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আগত হাবিবুর রহমান ফকির বলেন, “গুরুর প্রতি ভক্তি ও আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য আমরা প্রতি বছর এখানে আসি। শুধু দেশ নয়, ভারত থেকেও অনেক সাধু-সন্ন্যাসী এই উৎসবে যোগ দেন।”
মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী ‘মহাস্থানের কটকটি’। মেলাকে ঘিরে জমে উঠেছে কেনাবেচাও। স্থানীয় কটকটি ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ দিনে কয়েক গুণ বেশি বিক্রি হয়। একদিনেই কয়েক কোটি টাকার কটকটি বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মাটির তৈজসপত্র, খেলনা ও গৃহস্থালি পণ্যের দোকানেও ছিল উপচে পড়া ভিড়।
মেলার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
ঐতিহ্য, ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা ও লোকজ সংস্কৃতির অনন্য মেলবন্ধনে মহাস্থানগড়ের বৈশাখী মেলা আবারও হয়ে উঠেছে হাজারো মানুষের প্রাণের উৎসব।
মন্তব্য করুন