নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) ও রেশনিংয়ের চাল-আটা কালোবাজারি এবং পাচারের সময় হাতে-নাতে আটকের ঘটনায় মামলা হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে মূল হোতারা। গণমাধ্যমে ঘুষ লেনদেন ও অনিয়মের সচিত্র সংবাদ প্রচারের পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি খাদ্য অধিদপ্তর, যা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও মামলা:
সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঢাকা রেশনিংয়ের চাল ও আটা কালোবাজারি করে পাচারের সময় বিশেষ অভিযানে তা জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় ‘বিশেষ ক্ষমতা আইনে’ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আটা-চাল বিক্রির অনিয়ম তদারককারী কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা ও যোগসাজশের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
ঘুষের ভিডিও ও দাপ্তরিক দুর্নীতি:
সংশ্লিষ্ট প্রধান নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের অফিস সহকারী ও অফিস সহায়কদের সরাসরি ঘুষের টাকা লেনদেনের দৃশ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ওএমএস ডিলারদের সুবিধা করে দিতে এবং কালোবাজারি চক্রকে সুরক্ষা দিতে প্রকাশ্যেই অর্থের বিনিময় চলছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব নিম্নপদস্থ কর্মচারীরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে মাসের পর মাস লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
অধিদপ্তরের রহস্যজনক নীরবতা:
সাধারণত এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ ও মামলা হওয়ার পর অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত বা বিভাগীয় তদন্তের নিয়ম থাকলেও খাদ্য অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দিলেও মাঠ পর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই। এমনকি অভিযুক্ত অফিস সহকারী ও তদারককারী কর্মকর্তারা বহাল তবিয়তে তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
জনমনে প্রতিক্রিয়া:
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের মতে, খাদ্য অধিদপ্তরের এমন নীরবতা দুর্নীতিবাজদের আরও উৎসাহিত করছে। সাধারণ মানুষ যেখানে ন্যায্যমূল্যের চাল-আটার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরছে, সেখানে সরকারি সম্পদ লুটেরাদের রক্ষা করা অধিদপ্তরের নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি ‘প্রক্রিয়াধীন’ বলে এড়িয়ে যান। তবে কতদিনের মধ্যে এই দুর্নীতির বিচার হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সরকারি বরাদ্দের সঠিক বণ্টন বজায় রাখতে এই কালোবাজারি সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন