চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড কমিরা ইউনিয়ন রাজাপুর এলাকায় গত ২৫ জুন গৃহবধু নাসরিন আক্তার প্রিয়া মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে রহস্যজনক,প্রিয়ার, পরিবারের দাবি এটা ফাঁসি নয় নই এটা হত্যা।
গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১দিকে সীতাকুণ্ড বড় কুমিরা নিউ রাজাপুর এলাকা, রোজ গার্ডেন একাডেমির, শিক্ষক নুরুন্নবী জনি, স্ত্রীকে নিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছিল,
ঘটনা দিন শশুর বাড়ি সিঁড়ির রুমে ভিতের ফ্লোরে মধ্যে, পড়ে থাকা অবস্থায় গৃহবধূ মরদেহটি দেখায় যায়,
পরে প্রিয়ার পরিবারের লোক জন ও থানার পুলিশ এসে লাশটিকে উদ্ধার করেন ,বলে জানা যায়।
এই গৃহবধু হত্যার ঘটনা কে নিয়ে রহস্যজনক হয়ে উঠেন, প্রিয়ার, শশুর বাড়ি পরিবারের সদস্যদেরা বলেন, প্রিয়ার আত্মহত্যা করছে, অন্যদিকে প্রিয়ার, পরিবারের দাবি এইটি আত্মহত্যা নয়, এটি পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে,
এদিকে গৃহবধূ শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন,রয়েছে, বলেন,তার পরিবার, এক পর্যায়ে মৃত্যু ঘটনাটি এ এলাকায় জুড়ে জটিল রূপ নিয়েছে।
গৃহবধূর স্বামী নুরনবী জনি বলেন, দাম্পত্য কলহ থেকে রাগের বসতে, তার স্ত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে,
তিনি আরও বলেন, আমাদের সুন্দরভাবে জীবন অতিবাহিত হয়ে চলতেছে,সংসার জীবন প্রায় ছয় বছর, এর মধ্যে কোন সন্তান হয়নি, তারপরও দাম্পত্য জীবন সুন্দর ভাবে চলতেছে, একককে যথেষ্ট ভাবে নিয়ে সন্তুষ্ট, আছি,এবং আমার স্ত্রীর মধ্যে একটি সমস্যা ছিল, সেইটা আমি মেনে নিয়েছি, এক পর্যায়ে তা থেকেও সরে আসেন, প্রিয়া,
তার সন্তান না হওয়াতেও শান্তনা দিয়ে বিশ্বাস জুগায়ে রাখতাম, তারপরও সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তো, সেই মানসিক যন্ত্রণা ও মান অভিমান থেকে বাঁচতে আত্মহত্যা পথ বেছে নিয়েছে,
এদিকে তার গলা ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা কথা বললেও তার কোন চিহ্নিত পাওয়া যায়নি বলেন প্রিয়ার,বড় ভাই সুমন, তিনি বলেন সিঁড়ির রুমের লোহার অ্যাঙ্গেল এর সাথে একটি ওড়না পেছানো ছিল কিন্তু, নিচে টেবিল ছিল টেবিলের উপর রাখা পানির বোতল সব স্বাভাবিক ছিল,
এদিকে প্রিয়ার স্বামী বলেন মরদেহটি বাড়ির লোকজনে নামিয়েছিল, এমন কথা বললেও কিন্তু কারো স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি, এমনটি বলেন মেয়ের ভাই সুমন,
প্রিয়ার সেজু ভাই, সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাকে,বোনের স্বামী, ছোট ভাই কল দিয়ে বলছিল, আপনার বোন স্ট্রো করেছে,আপনারা সবাই আসেন, এটা বলে আমাদেরকে ডেকে নিয়ে এসেছে, কিন্তু হত্যাকান্ড আড়ালে সুকৌশলে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে রেখেছেন,
আমরা সবাই যখন বোনের শ্বশুর বাড়িতে যায়, দেখি বোনের মৃতদেহটি ফ্লোরে মধ্যে পড়ে থাকতে, দেখা যায়,
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, আমার বোনের স্বামী অভিনয়ভাবে কান্নাকাটি করতেছে,কিন্তু তাদের ফ্যামিলির অন্য লোক সদস্যরা দূরে সরে থাকে,
পরে যখন আত্মহত্যার কথা বলে, কিন্তু আত্মহত্যার কোন চিহ্নিত পাওয়া যায়নি আমার বোনের,বরণ দেখা গেছে, বোনের শীররেকে মাথায় ও কপালে, এবং পিটের, জঘমের দাগ,এবং পেটও ফুলানো অবস্থায় ছিল,
এমন অবস্থা দেখে আমরা থানায় খবর দিলে, আমার বোনের স্বামী আমাদেরকে বলেন,এত কিছু না করে ঝামেলা না জড়িয়ে, আপনাদের বোনের দাফনের ব্যবস্থা করেন,
কিন্তু পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় হেফাজতে নিয়ে যায়, সেখান থেকে ময়নাতদন্ত জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ চমকে হাসপাতালে ফাটানো করা হয়।
সুমন বলেন, আমার বোনের স্বামী জনির সাথে, তাদের বাড়ির এক মহিলার সাথে দীর্ঘদিন ধরে, পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে, এবং মহিলার ঘরে জনি ঘন্টার পর ঘন্টা, আড্ডা দেন।এসব বিষয় নিয়ে আমার বোন যদি কথা বললে, তখন তার উপর নির্যাতন শুরু করত জনি,
এবং সন্তান না হওয়া নিয়ে নানান ধরনের অবঞ্চিত কথাবার্তা বলতো, জনি,ও স্কুল থেকে এসে,যতক্ষণ তার ঘরে থাকতো, বেশিরভাগ মোবাইলে শুধু কথা বলতো, বোনে জিজ্ঞেস করলে সেটা নিয়েও থাকে গালমন্দ করত,
এ বিষয়ে সুমন বলেন,জনি,সকালে দিকে কেউ ঘুম থেকে ওঠার আগে স্কুলে চলে যায়, আমার বোনের মরদেহটি গুম করতে না পারায় ঠিক ১ টার দিকে আত্মহত্যা নাটক সাজিয়েছেন,এ এবং ফাঁসি খাওয়ার মরদেহটি নিচে নামানো কেন ছিল এ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলেন পুলিশ কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে, সীতাকুণ্ড মডেল থানার এস আই কামরুল হাসান, বলেন, গৃহবধূ মরদেহটি মাটিতে পাওয়ার কারণে , তদন্ত সাপেক্ষে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল, এবং ময়নাতদন্তের শেষ , মৃত্যুর কারণ জানা যাবে, আপাতত অপমৃত্যু হিসেবে, একটি মামলা দায়ের করা,
মন্তব্য করুন