রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা : পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দিনরাত মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান। পশুর হাট, মহাসড়ক, বিপণিবিতান, ব্যাংক ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে তার নেতৃত্বে পুলিশের কঠোর নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ঈদকে ঘিরে রায়গঞ্জ ও সলঙ্গা থানা এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে তিনি নিজেই মাঠ পর্যায়ে তদারকি করছেন। দিন- রাত—সব সময়ই তাকে বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাচ্ছে।
ঈদুল আজহার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার জনাব সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম (বার)-এর নির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ পশুর হাটগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে পুলিশ কন্ট্রোল রুম। পকেটমার, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও জাল টাকার প্রতারণা রোধে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
হাসিল আদায়কে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, বিশৃঙ্খলা বা চাঁদাবাজির ঘটনা না ঘটে, সেজন্য হাট ইজারাদার ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান নিজেই বিভিন্ন পশুর হাট পরিদর্শন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
অন্যদিকে, রায়গঞ্জ সার্কেলের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল। ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধ এবং ছিনতাই-ডাকাতি প্রতিরোধে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং এর ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
ঈদের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নারী ও সাধারণ ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য। এছাড়া, ঈদের আগে ব্যাংক ও এটিএম বুথগুলোতে বাড়তি আর্থিক লেনদেনের কারণে সেসব এলাকাতেও বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান যে ভাবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নিজের ঈদের আনন্দের চেয়ে জনগণের নিরাপত্তাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশনায় রায়গঞ্জ সার্কেলের সর্বত্র নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঈদের ছুটি শেষ হওয়া পর্যন্ত পুলিশের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও জানান, মানুষ যাতে তার কর্মস্থলে নিরাপদে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
মন্তব্য করুন