সরদার নাছির আহমেদ : রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সাংবাদিকদের ধারাবাহিক অনুসন্ধানের পর অবশেষে চক্রের অন্যতম প্রধান সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক প্রিয়া চৌধুরীর ও আল আমিন আবিরের সংগ্রহ করা তথ্য ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে একাধিক সাংবাদিক মাঠে নেমে চক্রটির কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় এবং পুলিশের কাছেও একাধিকবার হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাত আনুমানিক ১টার দিকে মুগদা মানিকনগর এলাকায় ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা রানার নেতৃত্বে স্থানীয় জনতা অভিযান চালিয়ে কথিত হানি ট্র্যাপ চক্রের দুই সদস্যকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন মৌসুমি ওরফে পাপ্পি (৫০) এবং মুক্তা (৪০)।
স্থানীয়দের দাবি, মৌসুমি ওরফে পাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে চক্রটির অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করতেন। তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ দল বিভিন্ন কৌশলে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্ল্যাকমেইলের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
আটকের পরপরই তাদের মুগদা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় দেখা যায়। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী এ চক্রের কারণে আতঙ্ক ও হয়রানির শিকার হয়ে আসছিলেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তা পত্রিকায় সম্প্রতি প্রকাশিত “মুগদা-মাণ্ডা-মানিকনগরে ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইল চক্রের আনাগোনা, দিশেহারা সাধারণ মানুষ” শীর্ষক প্রতিবেদনে চক্রটির নানা কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘবদ্ধ এই চক্র বিভিন্ন প্রলোভন ও কৌশল ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে এবং দীর্ঘদিনের এই অপরাধচক্রের সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক উন্মোচিত হবে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাংবাদিকদের অনুসন্ধান, গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ এবং যুবদল নেতা রানার নেতৃত্বে স্থানীয়দের সক্রিয় ভূমিকার ফলে অবশেষে আলোচিত এই চক্রের সদস্যরা আইনের আওতায় এসেছে।
মন্তব্য করুন