সরদার নাছির আহমেদ : রাজধানীর দক্ষিণ মান্ডায় প্রেমিককে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তাসলিমাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মুগদা থানা । এর আগে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হেলেনা আক্তার ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, নিহত মোকাররম দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। সেখানে থাকাকালে তিনি তাসলিমাকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দেন। গত ১৩ মে দেশে ফিরে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে প্রেমিকা তাসলিমার সঙ্গে দেখা করতে রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকায় হেলেনা আক্তারের ভাড়া বাসায় যান।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই বাসায় অবস্থানকালে মোকাররম ও তাসলিমার মধ্যে বিয়ে এবং টাকা ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাসলিমা ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, ১৪ মে সকালে নাশতার সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। পরে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধের পাশাপাশি হাতুড়ি ও ধারালো বঁটি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে আট টুকরো করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব। পরে মরদেহের অংশ পলিথিন ও বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ১৭ মে পুলিশ মরদেহের টুকরো উদ্ধার করে। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
ঘটনার পর র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় হেলেনা ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তারের পর প্রধান অভিযুক্ত তাসলিমাকেও আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন