নিজস্ব প্রতিবেদক : ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেলস) চাল ও আটার চালান স্বাক্ষরের জন্য ঢাকা রেশনিং প্রধান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রকাশ্য ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও চিত্র প্রকাশ্যে আসার পর অপরাধের সত্যতা স্বীকার করেছেন কার্যালয়ের সহকারী নিয়ন্ত্রক সাব্বির হোসেন মুরাদ। তবে ঘটনার এতদিন পার হলেও অভিযুক্ত চার কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে এখনও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা রেশনিং প্রধান নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের একটি চক্র ওএমএস ডিলারদের চাল ও আটার চালান ছাড়পত্র দেওয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মতান্ত্রিকভাবে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, টেবিলের নিচে এবং ড্রয়ারে প্রকাশ্যে ঘুষের টাকা নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। টাকা না দিলে চালান আটকে রাখা এবং ডিলারদের হয়রানি করারও অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সহকারী নিয়ন্ত্রক সাব্বির হোসেন মুরাদ ক্যামেরার সামনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি জানান, ভিডিওতে যাদের দেখা গেছে তারা এই কার্যালয়েরই কর্মী এবং সেখানে টাকা লেনদেনের বিষয়টি ঘটেছে। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ডিলার ও সচেতন মহল। তারা বলছেন, প্রমাণসহ অপরাধের সত্যতা স্বীকার করার পরও ব্যবস্থা না নেওয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল। দ্রুত এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ওএমএস কার্যক্রমের স্বচ্ছতা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।
এই বিষয়ে ঢাকা রেশনিং প্রধান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা এবং খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তারা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রথাগত আশ্বাস দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন