নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা রেশনিং এলাকায় ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচির ডিলার নিয়োগে চরম অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে কোনো ধরনের লটারি ছাড়াই ডিলার নিয়োগ চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, কোনো কোনো বিক্রয় কেন্দ্রে একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পরও বেশ কয়েকজন যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। উল্টো নীতিমালার বাইরে গিয়ে দোকান বা স্থায়ী অবকাঠামো নেই—এমন ব্যক্তিদের ডিলার হিসেবে নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পাঁয়তারা চলছে।
ভুক্তভোগী প্রার্থী ও খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন ডিলার নিয়োগের জন্য গত বছর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকলে ও স্বচ্ছ লটারির মাধ্যমে ডিলার নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু অনেক এলাকায় যাচাই-বাছাই শেষে স্ক্রুটিনিতে মাত্র একজন আবেদনকারী বৈধ ঘোষিত হন। নিয়ম অনুযায়ী ওই একক বৈধ আবেদনকারীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে দ্রুত নিয়োগপত্র প্রদান করার কথা। কিন্তু মাসের পর মাস পার হলেও রহস্যজনক কারণে তাদের নিয়োগ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
বঞ্চিত একাধিক আবেদনকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সব কাগজ ও শর্ত পূরণ করায় আমার বিক্রয় কেন্দ্রে আমি একমাত্র বৈধ আবেদনকারী ছিলাম। আমার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। কিন্তু এখন শুনছি রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব খাটিয়ে সম্পূর্ণ লটারি বিহীনভাবে ব্যাকডেটে অন্য কাউকে বসানোর চেষ্টা চলছে। আমাদের ফাইল আটকে রাখা হয়েছে।”
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডিলার নিয়োগের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো নির্দিষ্ট এলাকায় নিজস্ব বা ভাড়াকৃত দোকান বা গোডাউন থাকতে হবে। অথচ খাদ্য অধিদপ্তরের একটি চক্র মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এমন কিছু ব্যক্তিকে লাইসেন্স দেওয়ার চূড়ান্ত তালিকায় রেখেছে, যাদের কোনো দোকান বা ব্যবস্থাপনাই নেই। “দোকানবিহীন” এসব ভুয়া ডিলার নিয়োগ পেলে সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যের চাল-আটা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবে এবং রেশনিংয়ের চাল কালোবাজারে পাচার হওয়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। তারা লটারি এড়াতে এবং নিজেদের পছন্দের মানুষকে সুবিধা দিতেই যোগ্য ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতা প্রার্থীদের ফাইল আটকে কৃত্রিম জটিলতা তৈরি করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর একজন প্রতিনিধি বলেন, “লটারি ছাড়া এবং দোকানবিহীন ডিলার নিয়োগ দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। এতে ওএমএস কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। আমরা এই প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রকৃত ব্যবসায়ীদের অবিলম্বে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। দ্রুত সমাধান না হলে তারা আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইতিমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে লটারি বিহীন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত দ্বিতীয় পর্বে দেখতে চোখ রাখুন।
মন্তব্য করুন