কিশোর ডি কস্তা, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার : সমাজে সাংবাদিক, পুলিশ ও শিক্ষক—এই তিনটি পেশাকে অত্যন্ত সম্মান ও দায়িত্বের চোখে দেখা হয়। সত্য তুলে ধরা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁদের কাঁধে।
কিন্তু একটি বিষয় আমরা প্রায়ই ভুলে যাই—তাঁরাও মানুষ।
তাঁদেরও পরিবার আছে, সন্তান আছে, প্রিয়জন আছে। প্রতিদিনের দায়িত্ব, মানসিক চাপ, ঝুঁকি, কষ্ট ও ক্লান্তির মাঝেও তাঁদের একটু হাসি, একটু আনন্দ, একটু অবসর দরকার। এটি কোনো বিলাসিতা নয়; এটি একজন মানুষের স্বাভাবিক অধিকার।
দুঃখজনকভাবে, অনেক সময় দেখা যায় কোনো সাংবাদিক, পুলিশ সদস্য বা শিক্ষক পরিবার, সহকর্মী বা বন্ধুদের সঙ্গে কোথাও ঘুরতে গেলে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিলে বা আনন্দের কিছু মুহূর্ত ভাগ করে নিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়। যেন তাঁদের হাসার অধিকারনেই।
এই মানসিকতা পরিবর্তন হওয়া দরকার। কোনো পেশার মানুষই চব্বিশ ঘণ্টা কেবল দায়িত্বের যন্ত্র নন। বরং সুস্থ মানসিকতা, পারিবারিক বন্ধন ও সামান্য বিনোদন একজন মানুষকে আরও কর্মক্ষম, মানবিক ও দায়িত্বশীল করে তোলে। একজন সুখী সাংবাদিক আরও সাহসের সঙ্গে সত্য তুলে ধরতে পারেন, একজন মানসিকভাবে সুস্থ পুলিশ সদস্য আরও মানবিকভাবে আইন প্রয়োগ করতে পারেন, আর একজন আনন্দিত শিক্ষক আরও ভালোভাবে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে পারেন।
সমালোচনা অবশ্যই হবে, তবে তা হওয়া উচিত তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতে—ব্যক্তিগত জীবনের স্বাভাবিক আনন্দের জন্য নয়।
আসুন, আমরা পেশার প্রতি সম্মান দেখানোর পাশাপাশি মানুষটিকেও সম্মান করি। কারণ ইউনিফর্মের ভেতরে, কলমের আড়ালে কিংবা শ্রেণিকক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিও আমাদের মতোই একজন মানুষ—যাঁর চোখে স্বপ্ন আছে, মনে অনুভূতি আছে, আর জীবনে একটু হাসি-আনন্দেরও প্রয়োজন আছে। মানুষকে তাঁর পেশা দিয়ে নয়, তাঁর মানবিকতা দিয়েও মূল্যায়ন করি।
মন্তব্য করুন