আবু আলম (রাকিব) শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একজন সাংবাদিককে আসামি করায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার চার নম্বর আসামি করা হয়েছে স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি ও শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য মিরাজ শিকদারকে।
তবে মিরাজ শিকদারের দাবি, ঘটনার সময় তিনি সাংবাদিক হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং হামলার ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন মাত্র। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আদালত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত রোববার সকালে ডামুড্যা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার বিদ্যালয়ে পৌঁছালে বিদ্যালয়ের ফটকের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। পরে আহত অবস্থায় তিনি চিকিৎসা নেন এবং পরদিন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চাঁদা দাবি ও হামলার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। নামীয় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন, আশিক বেপারী, সাহিন মাদবর, সাংবাদিক মিরাজ শিকদার, মিঠু শিকদার, শাহ আলম, ইপ্তি সরদার ও আলিফ শিকদার।
এদিকে ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলার সময় সাংবাদিক মিরাজ শিকদার ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরে অবস্থান করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। বিষয়টি সামনে আসার পর তাকে মামলার আসামি করাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
মিরাজ শিকদার বলেন, “প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকারের বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও অভিযোগ নিয়ে আমি একাধিক সংবাদ প্রকাশ করেছি। সেই ক্ষোভ থেকেই আমাকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। ঘটনার সময় আমি একজন সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম এবং ভিডিও ধারণ করছিলাম। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”
সাংবাদিককে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতারাও। শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রবিন বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক যদি ব্যক্তিগত রেষারেষি বা অন্য কোনো কারণে মামলার আসামি হন, তাহলে তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক। আমরা প্রশাসনের কাছে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।”
অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক সুজিত কর্মকার দাবি করেন, “মিরাজ শিকদার এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীদের একজন। তিনি অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে হামলা করিয়েছেন এবং পরে ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করেছেন।”
এ বিষয়ে ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আদালত থেকে এখনো মামলার কাগজপত্র হাতে পাইনি। কাগজপত্র পাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন সাংবাদিককে মামলার আসামি করার বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
মন্তব্য করুন