ছাতক প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের মুনিরজ্ঞাতি- নয়াগাঁও এলাকায় রাস্তায় মাটি ভরাট কাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশে বসত বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীদের প্রতিহত করতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন ব্যক্তি আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ৬ জনকে ভর্তি করা হয়েছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অন্যান্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, কাবিখা-কাবিটা ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের বরাদ্দ থেকে উপজেলার দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের মনিরজ্ঞাতি-নোয়াগাঁও সেনপুর থেকে মাস্টার ইউসুফ আলীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় মাটি ভরাট কাজের জন্য ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি ইউপি চেয়ারম্যান নিজে তার লোকজনদের মাধ্যমে করার কারণে অনিয়মের অভিযোগ উঠে। এ বিষয়ে গেল (১০ মে) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে গ্রামবাসীর পক্ষে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সুজন মিয়াসহ ৭ জন ব্যক্তি।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার রাস্তাটি পরিদর্শনে যান স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা। অভিযোগ কারীদের বক্তব্য ও রাস্তা পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যম কর্মীরা স্থান ত্যাগের পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর। এসময় তার নির্দেশে অভিযোগকারীদের বসত ঘরে হামলার অভিযোগ উঠে। এতে অন্তত ৫ জনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তাদের রক্ষা করতে আশপাশের লোকজন ছোটে আসলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১৫ জন ব্যক্তি আহত হয়। গুরুতর আহত ৬ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতদের স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন, নুর আলী, রহমত আলী, আহমদ আলী, জুয়েল, রুয়েল, কিরণ মিয়া, কাওসার আহমদ, আকরাম আলী, লিয়াকত আলী, রফিক মিয়া, উকিল মিয়া, জুনেদসহ কয়েকজন। এদের মধ্যে গুরুতর ৬জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য দবির আহমদ জানান, শুনেছি চেয়ারম্যান নিজে ঘটনাস্থলে থেকে তার লোকজন দিয়ে অভিযোগকারীদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন। আহত লিয়াকত আলী বলেন, চেয়ারম্যান ও তার ঠিকাদার সেবুল মিয়ার বিরুদ্ধে রাস্তায় মাটি ভরাট কাজে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। সে সময় আওয়ামীলীগ নেতা কিরণ মিয়া কথা-বার্তা বলতে তাদের বাঁধা দেন এবং পরে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
তবে সাবেক ইউপি সদস্য আখলু মিয়ার দাবি তার ভাইকে গালিগালাজের প্রতিবাদ করায় এ ঘটনার সুত্রপাত হয়।
অন্যদিকে দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিকের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের সংবাদ পেয়েছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন