নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:ঢাকা রেশনিং কার্যালয়ের চার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন ঢাকা রেশনিং কার্যালয়ের প্রধান নিয়ন্ত্রক মো. আব্দুল কাদের। তথ্য সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকরা একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং পূর্ববর্তী কর্মকর্তার ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা রেশনিংয়ের চার কর্মকর্তা-কর্মচারীর সুনির্দিষ্ট ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে বক্তব্য নিতে গত মঙ্গলবার প্রধান নিয়ন্ত্রক মো. আব্দুল কাদেরের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হয়। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় তখন সরাসরি কথা বলার জন্য বিশেষ সময় দেন এবং বুধবার দুপুর ২:৩০ মিনিটে তার কার্যালয়ে আসার জন্য বলেন।
নির্ধারিত সময়ে বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে আকস্মিক বৃষ্টির কারণে সাংবাদিকদের পৌঁছাতে সামান্য বিলম্ব হয়। পরবর্তীতে বিকাল ৩টার দিকে প্রধান নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাতের চেষ্টা করা হলে তিনি হঠাৎ ‘ব্যস্ততা’র অজুহাত দেখিয়ে সাংবাদিকদের সাথে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এর আগে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের সময় প্রধান নিয়ন্ত্রক আব্দুল কাদের দাবি করেছিলেন, তাঁর সময়ে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আগের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের সময় সব অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে।” ওইসব দুর্নীতির বিষয়ে তাঁর কোনো দায় নেই উল্লেখ করে এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরে যোগাযোগ করে বক্তব্য নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কথা বলার সময় দিয়েও পরবর্তীতে রেশনিং প্রধানের এমন এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। নিজের কার্যালয়ের বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঘুষ কেলেঙ্কারির দায় এড়াতে তিনি পূর্বতন কর্মকর্তার দোহাই দিচ্ছেন কি না—তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।তিনি যোগদানের পরপরই লটারি বিহীন ডিলারদের কার্যক্রম শুরু করেন। তাই সচেতন মহল মনে করছেন, দুর্নীতি ধামাচাপা দিতেই তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্যের মুখোমুখি হওয়া থেকে বিরত থাকছেন। এ বিষয়ে খাদ্য দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
বিস্তারিত আরও তথ্য জানতে চোখ রাখুন দ্বিতীয় পর্বে
মন্তব্য করুন